নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ।

সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে ভাসছিল দুই মাসের এক নিষ্পাপ শিশুর বাঁচার আকুতি। জন্মেই যে শিশুটিকে লড়তে হচ্ছে হাইড্রোকেফালাস নামের এক জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের সাথে। ধামরাই পৌর শহরের বাসিন্দা এস.এম রায়হানুরের এই অসহায় কন্যাসন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে যখন পরিবারটি দিশেহারা, ঠিক তখনই সেই ফেসবুকের বার্তা দেখে দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়ালেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও জাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান অভি।

​রোগের নিষ্ঠুরতা ও একটি পরিবারের অসহায়ত্ব
​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মস্তিষ্কে জন্মগতভাবেই পানি জমছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জরুরি অপারেশন ছাড়া শিশুটিকে বাঁচানো অসম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদি ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। মধ্যবিত্ত বাবার পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা যখন অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখনই পরিবারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানায়।
​ফেসবুকের খবর দেখে ছুটে যাওয়া ​ভার্চুয়াল দুনিয়ায় এই কষ্টের খবরটি নজরে আসতেই আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি যুবনেতা নাজমুল হাসান অভি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ধামরাইয়ে শিশুটির বাড়িতে ছুটে যান এবং শিশুটির চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।

​শুধু সান্ত্বনা দিয়েই শেষ নয়, শিশুটির উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি ঢাকার স্বনামধন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তির তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করে দেন। রাজনীতি ও সমাজসেবার মূল লক্ষ্যই মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই ফুটফুটে শিশুটির কষ্ট দেখে নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এবং শিশুটি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমি এই পরিবারের পাশে থাকব এ কথা বললেন নাজমুল হাসান অভি। এ সময় তিনি চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন এবং আগামী দিনেও চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ ও প্রক্রিয়ায় পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন। বিপদের দিনে এমন তাৎক্ষণিক ও দায়িত্বশীল মানবিকতায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছে শিশুটির পরিবার। তারা অশ্রুসিক্ত চোখে অভির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।