নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ।
ঢাকার ধামরাই থানা স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এখন সাধারণ যাত্রী ও চালকদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। আশুলিয়া থেকে আসা মাটিবাহী ড্রাম ট্রাকগুলো থেকে অবিন্যস্তভাবে ছিটকে পড়া মাটির কারণে মহাসড়কের বিশাল অংশ জুড়ে পিচ্ছিল স্তূপ তৈরি হয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, যা এই ব্যস্ততম সড়কটিকে মরণফাঁদে পরিণত করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি কিনে ধামরাইয়ের বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে একদল অসাধু মাটি ব্যবসায়ী। ড্রাম ট্রাকে করে মাটি পরিবহনের সময় কোনো ধরনের ত্রিপল বা নিরাপত্তা বেষ্টনী ব্যবহার না করায় ট্রাকের গতিবেগে মাটি ছিটকে সরাসরি মহাসড়কের ওপর পড়ছে। ধামরাই থানা স্ট্যান্ড এলাকায় এই মাটির আস্তরণ এতটাই ভয়ংকর ভাবে পড়ে আছে যে, সামান্য বৃষ্টিতে এটি পিচ্ছিল কাদায় রূপ নেবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও দ্রুতগামী যানবাহনগুলো এই পিচ্ছিল অংশে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। স্থানীয় যাত্রীরা জানান, গত কয়েক দিনে এখানে একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া বড় ট্রাক বা বাস ব্রেক করলে চাকা পিছলে গিয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা,ধামরাই থানা স্ট্যান্ডে আনুমানিক রাত ১২:৪৫ মিনিটে ড্রামট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পড়ে থাকায় স্থানীয় সাংবাদিকরা ধামরাই থানা পুলিশ ও হাইওয়ে থানা পুলিশ সহ ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ে স্টেশন অফিসার মোঃ আল আমিন খান ফোন পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মহাসড়কটি যানজট মুক্ত করেন। সেই সাথে মহাসড়কে পড়ে থাকা মাটিগুলো লেবারের মাধ্যমে পরিষ্কার করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ শুরু করেন। মহাসড়ক থেকে কাদা সরানোর চেষ্টা চললেও মাটি পরিবহন বন্ধ না হওয়ায় এই সমাধানকে স্থায়ী মনে করছেন না কেউই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় থানা স্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দিনের পর দিন এই অনিয়ম চললেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা অবিলম্বে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।