ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ধামরাইয়ে খড় শুকানো নিয়ে বিরোধে আহত গৃহবধূর মৃত্যু, খুনিদের ফাসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ফেরি থেকে নদীতে পড়ে তলিয়ে গেল যাত্রীবাহী বাস, পাটুরিয়া ঘাটে তুমুল আতঙ্ক ধামরাইয়ে দ্বীনি চেতনা পরিষদ এর উদ্যোগে ১১৮ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ধামরাইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা ধামরাইয়ে ৬৩ বোতল মাদকসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হারুন গ্রেফতার ধামরাইয়ে রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ধামরাই সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের মাসিক আলোচনা সভা সম্পন্ন ঢাকা – আরিচা মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। ঢাকা – আরিচা মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত
নোটিশ :

ধামরাইয়ে খড় শুকানো নিয়ে বিরোধে আহত গৃহবধূর মৃত্যু, খুনিদের ফাসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ।

ঢাকার ধামরাইয়ে সামান্য ধানের খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের বর্বরচিত হামলায় গুরুতর আহত গৃহবধূ লাইলী বেগম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সপ্তাহখানেক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত গ্রামবাসী অংশ নেন।

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে বৈন্যা গ্রামে খড় শুকানো নিয়ে লাইলী বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী নাহিদা মেম্বার ও তার ছেলে শারমানের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে নাহিদা মেম্বার ও শারমানের সন্ত্রাসী বাহিনী লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই গৃহবধূর ওপর চড়াও হয়। তারা লাইলী বেগমকে নির্মমভাবে ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

​মানববন্ধনে নিহতের মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
​আমার মা আর আমাকে নাহিদা বেগম মারধর করেন। আমার ফুপি আমাদের বাঁচাতে গেলে তারা আমার ফুপিকেও টেনে হিঁচড়ে মারধর করে। রাতে আমার মা বাইরে বের হলে তাকে তুলে নিয়ে যায় আর আমাদের ঘর বাইরে থেকে আটকে দেয়। শারমান, কায়েস ও নাহিদা বেগমসহ আরও কয়েকজন আমার মাকে কুপিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখে। এভাবে যারা আমার মাকে মেরে ফেললো, তাদের ফাঁসি দাবি করছি। ​নিহত লাইলী বেগমের ছেলেও মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমার মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেছি। সব শেষে এনাম হাসপাতালে আইসিইউতে আমার মা মারা যান। মায়ের সাথে শেষ কথাটাও বলতে পারি নাই। আমার মায়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই।

​মানববন্ধনে বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর থেকে মূল আসামি নাহিদা মেম্বারের ছেলে শারমানসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ এখনো মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত নাহিদা মেম্বার, তার ছেলে শারমান, কায়েসসহ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধামরাইয়ে খড় শুকানো নিয়ে বিরোধে আহত গৃহবধূর মৃত্যু, খুনিদের ফাসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

ধামরাইয়ে খড় শুকানো নিয়ে বিরোধে আহত গৃহবধূর মৃত্যু, খুনিদের ফাসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৩:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ।

ঢাকার ধামরাইয়ে সামান্য ধানের খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের বর্বরচিত হামলায় গুরুতর আহত গৃহবধূ লাইলী বেগম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সপ্তাহখানেক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত গ্রামবাসী অংশ নেন।

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে বৈন্যা গ্রামে খড় শুকানো নিয়ে লাইলী বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী নাহিদা মেম্বার ও তার ছেলে শারমানের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে নাহিদা মেম্বার ও শারমানের সন্ত্রাসী বাহিনী লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই গৃহবধূর ওপর চড়াও হয়। তারা লাইলী বেগমকে নির্মমভাবে ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

​মানববন্ধনে নিহতের মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
​আমার মা আর আমাকে নাহিদা বেগম মারধর করেন। আমার ফুপি আমাদের বাঁচাতে গেলে তারা আমার ফুপিকেও টেনে হিঁচড়ে মারধর করে। রাতে আমার মা বাইরে বের হলে তাকে তুলে নিয়ে যায় আর আমাদের ঘর বাইরে থেকে আটকে দেয়। শারমান, কায়েস ও নাহিদা বেগমসহ আরও কয়েকজন আমার মাকে কুপিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখে। এভাবে যারা আমার মাকে মেরে ফেললো, তাদের ফাঁসি দাবি করছি। ​নিহত লাইলী বেগমের ছেলেও মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমার মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেছি। সব শেষে এনাম হাসপাতালে আইসিইউতে আমার মা মারা যান। মায়ের সাথে শেষ কথাটাও বলতে পারি নাই। আমার মায়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই।

​মানববন্ধনে বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর থেকে মূল আসামি নাহিদা মেম্বারের ছেলে শারমানসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ এখনো মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত নাহিদা মেম্বার, তার ছেলে শারমান, কায়েসসহ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।