ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে স্বাধীনতা পরিবহনের একটি মিনিবাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ শিক্ষার্থীর ধামরাইয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাবু গ্রেপ্তার ঢাকার ধামরাইয়ে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা শুরু ধামরাই রিপোর্টার্স ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন সভাপতি, আদনান, সাধারণ সম্পাদক, মোঃ রাজিউল হাসান পলাশ ধামরাইয়ে আসন্ন রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ ও ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪ ধামরাইয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত, আলোচনা সভা ও ঋণ বিতরণ ধামরাইয়ে মাদক, জুয়া ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ​বিলুপ্ত প্রজাতির গাছ বাঁচাতে ধামরাইয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ধামরাইয়ে কৃষি উপকরণ বিতরণ কর্মসূচি
নোটিশ :

ধামরাইয়ে খড় শুকানো নিয়ে বিরোধে আহত গৃহবধূর মৃত্যু, খুনিদের ফাসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ।

ঢাকার ধামরাইয়ে সামান্য ধানের খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের বর্বরচিত হামলায় গুরুতর আহত গৃহবধূ লাইলী বেগম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সপ্তাহখানেক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত গ্রামবাসী অংশ নেন।

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে বৈন্যা গ্রামে খড় শুকানো নিয়ে লাইলী বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী নাহিদা মেম্বার ও তার ছেলে শারমানের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে নাহিদা মেম্বার ও শারমানের সন্ত্রাসী বাহিনী লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই গৃহবধূর ওপর চড়াও হয়। তারা লাইলী বেগমকে নির্মমভাবে ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

​মানববন্ধনে নিহতের মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
​আমার মা আর আমাকে নাহিদা বেগম মারধর করেন। আমার ফুপি আমাদের বাঁচাতে গেলে তারা আমার ফুপিকেও টেনে হিঁচড়ে মারধর করে। রাতে আমার মা বাইরে বের হলে তাকে তুলে নিয়ে যায় আর আমাদের ঘর বাইরে থেকে আটকে দেয়। শারমান, কায়েস ও নাহিদা বেগমসহ আরও কয়েকজন আমার মাকে কুপিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখে। এভাবে যারা আমার মাকে মেরে ফেললো, তাদের ফাঁসি দাবি করছি। ​নিহত লাইলী বেগমের ছেলেও মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমার মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেছি। সব শেষে এনাম হাসপাতালে আইসিইউতে আমার মা মারা যান। মায়ের সাথে শেষ কথাটাও বলতে পারি নাই। আমার মায়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই।

​মানববন্ধনে বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর থেকে মূল আসামি নাহিদা মেম্বারের ছেলে শারমানসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ এখনো মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত নাহিদা মেম্বার, তার ছেলে শারমান, কায়েসসহ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে স্বাধীনতা পরিবহনের একটি মিনিবাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ শিক্ষার্থীর

ধামরাইয়ে খড় শুকানো নিয়ে বিরোধে আহত গৃহবধূর মৃত্যু, খুনিদের ফাসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৩:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ।

ঢাকার ধামরাইয়ে সামান্য ধানের খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের বর্বরচিত হামলায় গুরুতর আহত গৃহবধূ লাইলী বেগম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সপ্তাহখানেক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত গ্রামবাসী অংশ নেন।

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে বৈন্যা গ্রামে খড় শুকানো নিয়ে লাইলী বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী নাহিদা মেম্বার ও তার ছেলে শারমানের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে নাহিদা মেম্বার ও শারমানের সন্ত্রাসী বাহিনী লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই গৃহবধূর ওপর চড়াও হয়। তারা লাইলী বেগমকে নির্মমভাবে ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

​মানববন্ধনে নিহতের মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
​আমার মা আর আমাকে নাহিদা বেগম মারধর করেন। আমার ফুপি আমাদের বাঁচাতে গেলে তারা আমার ফুপিকেও টেনে হিঁচড়ে মারধর করে। রাতে আমার মা বাইরে বের হলে তাকে তুলে নিয়ে যায় আর আমাদের ঘর বাইরে থেকে আটকে দেয়। শারমান, কায়েস ও নাহিদা বেগমসহ আরও কয়েকজন আমার মাকে কুপিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখে। এভাবে যারা আমার মাকে মেরে ফেললো, তাদের ফাঁসি দাবি করছি। ​নিহত লাইলী বেগমের ছেলেও মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমার মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেছি। সব শেষে এনাম হাসপাতালে আইসিইউতে আমার মা মারা যান। মায়ের সাথে শেষ কথাটাও বলতে পারি নাই। আমার মায়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই।

​মানববন্ধনে বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর থেকে মূল আসামি নাহিদা মেম্বারের ছেলে শারমানসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ এখনো মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত নাহিদা মেম্বার, তার ছেলে শারমান, কায়েসসহ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।