নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ।
ঢাকার ধামরাইয়ের রূপনগর এলাকায় মদ খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে সাবু (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার শশুর ও শ্যালক সহ তিন সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নিহতের স্ত্রী এটিকে স্ট্রোকজনিত মৃত্যু বলে দাবি করায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (ঈদের) রাতে মদ খাওয়া নিয়ে সাবুর সাথে তার স্ত্রী,শশুর ও শ্যালক সহ তাদের সঙ্গীদের মধ্যে প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শশুর ও শ্যালক সহ তার সহযোগীরা মিলে সাবুকে দড়ি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত সাভারের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর মরদেহ বাড়িতে আনা হলে এলাকাবাসী মৃত্যুর কারণ জানতে চান। এসময় নিহতের স্ত্রী সবাইকে জানান যে, তার স্বামী অতিরিক্ত মদ পান করে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে সাবুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে। অভিযোগ উঠেছে, নিজের বাবা ও ভাই সহ তার সঙ্গীদের বাঁচাতে নিহতের স্ত্রী এই মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। এলাকাবাসী এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন।এ নিয়ে এলাকাবাসীর হত্যার সঠিক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
খবর পেয়ে পুলিশের এস,আই,এনামুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলেই বোঝা যাবে এটি মারধরের কারণে মৃত্যু নাকি স্বাভাবিক স্ট্রোক। যদি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা। এ ঘটনায় সাবুর শ্বশুর ও শালা সহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আনা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ 








