ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ধামরাইয়ের জমি দখলের পাঁয়তারা, বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধকে প্রাণনাশের হুমকি বিজিবির বিরুদ্ধে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ, কসবায় ক্ষোভ ও মব সৃষ্টির নেপথ্যে প্রশ্নবিদ্ধ মামলা ধামরাইয়ে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫ বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গু রুখতে মাঠে ধামরাই পৌরসভা, সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত ধামরাইয়ে খড় শুকানো নিয়ে বিরোধে আহত গৃহবধূর মৃত্যু, খুনিদের ফাসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ফেরি থেকে নদীতে পড়ে তলিয়ে গেল যাত্রীবাহী বাস, পাটুরিয়া ঘাটে তুমুল আতঙ্ক ধামরাইয়ে দ্বীনি চেতনা পরিষদ এর উদ্যোগে ১১৮ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ধামরাইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা ধামরাইয়ে ৬৩ বোতল মাদকসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হারুন গ্রেফতার
নোটিশ :

বিজিবির বিরুদ্ধে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ, কসবায় ক্ষোভ ও মব সৃষ্টির নেপথ্যে প্রশ্নবিদ্ধ মামলা

​স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ মিজানুর রহমান মিজান।

​কসবা উপজেলার নয়নপুর বাজারে সরকারি কাস্টমস ও গুদাম অফিসের বৈধ নিলামী পণ্য জব্দ করাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনগণের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও বিজিবি সদস্যদের বাজারে ঢুকে মালামাল জব্দের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে কসবা থানায় দায়েরকৃত একটি মামলা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
​বৈধ নিলামের পণ্য নিয়েও হয়রানি, প্রশ্নের মুখে বিজিবি।

​স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুদাম কার্যালয় হতে সাধারণ ঠিকাদারগণ যথাযথ শুল্ক ও কর পরিশোধ করে নিলামে জব্দকৃত ভারতীয় পণ্য ক্রয় করেন। কিন্তু সরকারি বৈধ নথিভুক্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ৬০ বিজিবির সদস্যরা নয়নপুর বাজারের ভেতরে এসে উক্ত মালামাল পুনরায় জব্দ করার চেষ্টা চালায়।
​নয়নপুর বাজার কমিটির সেক্রেটারি এবং স্থানীয় ভাষ্যমতে, বাজারে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং মব বা জনরোষ সৃষ্টির জন্য সম্পূর্ণভাবে বিজিবি অফিসার ও সদস্যবৃন্দ দায়ী।

​ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন ডিসি, ইউএনও, এসপি কিংবা বিজিবির সিও/জেসিও মহোদয়গণ যদি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে থাকেন, তবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভাগীয় কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও কি সরকারি কর্মকর্তা নন? কাস্টমসের বৈধ নিলামকে বিজিবি কেন বারবার এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে? বিজিবির এই অসচেতনতামূলক ও সমন্বয়হীন কার্যক্রমের জন্য লাইসেন্সকৃত সাধারণ ঠিকাদারগণ একের পর এক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

​উল্লেখ্য, ঘটনার দিন তীব্র প্রতিবাদের মুখে কতিপয় বিজিবি সদস্য নিলামকৃত মালামাল বোঝাই পিকআপটি বাজার কমিটি ও সাধারণ জনগণের সম্মুখে প্রকৃত মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়ে নিরাপদে স্ব-স্ব ক্যাম্পে ফিরে যান।

​একই ব্যক্তি দুইবার আসামি মামলাটি কি সাজানো?
​ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ০৬/০৬/২০২৬ ইং তারিখে সুলতানপুর বিজিবির সুবেদার (জেসিও নং- ৯৬৬৬, এনআইডি নং- ৪৬২৪৯০১১০৯৩৬৫) মোঃ মাসুদ বাদী হয়ে কসবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৮, তারিখ: ০৬/০৬/২০২৬ ইং)। মোট ১০টি ধারায় দায়ের করা এই মামলায় নয়নপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ​তবে অনুসন্ধানে এবং মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এজাহারভুক্ত আসামিদের নামের সাথে ঘটনার ভিডিও চিত্রের কোনো মিল নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মামলার ৯ নম্বর আসামি মোঃ মোশারফ হোসেন (২৮), পিতা- মোঃ হাকিম মিয়া, সাং- নয়নপুর, পোস্ট- কোনাঘাটা, উপজেলা- কসবা, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া; ঠিক একই ব্যক্তিকে আবার একই মামলার ১৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে। একই মামলায় এক ব্যক্তিকে দুইবার দুই ভিন্ন সিরিয়ালে আসামি করায় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন এই মামলাটি কি সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়?
​প্রশাসনের কাছে নয়নপুরবাসীর জোর দাবি
​এই মিথ্যা ও ত্রুটিপূর্ণ মামলার কারণে নয়নপুর বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঊর্ধ্বতন প্রশাসন এবং বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নয়নপুরবাসীর জোর দাবি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা হোক এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে এলাকায় ব্যবসাবান্ধব ও শান্তিময় পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ের জমি দখলের পাঁয়তারা, বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধকে প্রাণনাশের হুমকি

বিজিবির বিরুদ্ধে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ, কসবায় ক্ষোভ ও মব সৃষ্টির নেপথ্যে প্রশ্নবিদ্ধ মামলা

আপডেট সময় ০৪:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

​স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ মিজানুর রহমান মিজান।

​কসবা উপজেলার নয়নপুর বাজারে সরকারি কাস্টমস ও গুদাম অফিসের বৈধ নিলামী পণ্য জব্দ করাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনগণের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও বিজিবি সদস্যদের বাজারে ঢুকে মালামাল জব্দের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে কসবা থানায় দায়েরকৃত একটি মামলা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
​বৈধ নিলামের পণ্য নিয়েও হয়রানি, প্রশ্নের মুখে বিজিবি।

​স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুদাম কার্যালয় হতে সাধারণ ঠিকাদারগণ যথাযথ শুল্ক ও কর পরিশোধ করে নিলামে জব্দকৃত ভারতীয় পণ্য ক্রয় করেন। কিন্তু সরকারি বৈধ নথিভুক্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ৬০ বিজিবির সদস্যরা নয়নপুর বাজারের ভেতরে এসে উক্ত মালামাল পুনরায় জব্দ করার চেষ্টা চালায়।
​নয়নপুর বাজার কমিটির সেক্রেটারি এবং স্থানীয় ভাষ্যমতে, বাজারে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং মব বা জনরোষ সৃষ্টির জন্য সম্পূর্ণভাবে বিজিবি অফিসার ও সদস্যবৃন্দ দায়ী।

​ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন ডিসি, ইউএনও, এসপি কিংবা বিজিবির সিও/জেসিও মহোদয়গণ যদি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে থাকেন, তবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভাগীয় কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও কি সরকারি কর্মকর্তা নন? কাস্টমসের বৈধ নিলামকে বিজিবি কেন বারবার এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে? বিজিবির এই অসচেতনতামূলক ও সমন্বয়হীন কার্যক্রমের জন্য লাইসেন্সকৃত সাধারণ ঠিকাদারগণ একের পর এক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

​উল্লেখ্য, ঘটনার দিন তীব্র প্রতিবাদের মুখে কতিপয় বিজিবি সদস্য নিলামকৃত মালামাল বোঝাই পিকআপটি বাজার কমিটি ও সাধারণ জনগণের সম্মুখে প্রকৃত মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়ে নিরাপদে স্ব-স্ব ক্যাম্পে ফিরে যান।

​একই ব্যক্তি দুইবার আসামি মামলাটি কি সাজানো?
​ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ০৬/০৬/২০২৬ ইং তারিখে সুলতানপুর বিজিবির সুবেদার (জেসিও নং- ৯৬৬৬, এনআইডি নং- ৪৬২৪৯০১১০৯৩৬৫) মোঃ মাসুদ বাদী হয়ে কসবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৮, তারিখ: ০৬/০৬/২০২৬ ইং)। মোট ১০টি ধারায় দায়ের করা এই মামলায় নয়নপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ​তবে অনুসন্ধানে এবং মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এজাহারভুক্ত আসামিদের নামের সাথে ঘটনার ভিডিও চিত্রের কোনো মিল নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মামলার ৯ নম্বর আসামি মোঃ মোশারফ হোসেন (২৮), পিতা- মোঃ হাকিম মিয়া, সাং- নয়নপুর, পোস্ট- কোনাঘাটা, উপজেলা- কসবা, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া; ঠিক একই ব্যক্তিকে আবার একই মামলার ১৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে। একই মামলায় এক ব্যক্তিকে দুইবার দুই ভিন্ন সিরিয়ালে আসামি করায় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন এই মামলাটি কি সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়?
​প্রশাসনের কাছে নয়নপুরবাসীর জোর দাবি
​এই মিথ্যা ও ত্রুটিপূর্ণ মামলার কারণে নয়নপুর বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঊর্ধ্বতন প্রশাসন এবং বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নয়নপুরবাসীর জোর দাবি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করা হোক এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে এলাকায় ব্যবসাবান্ধব ও শান্তিময় পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।