ঢাকা , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ধামরাইয়ে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে মারধর ও ছিনতাই, থানায় লিখিত অভিযোগ ধামরাইয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাকা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ধামরাইয়ে জুলাই শহীদ সাদের স্মৃতি চিরভাস্বর রাখতে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ধামরাইয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে তারেক রহমানের পূজা উপহার বিতরণ করছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সুলতানা আহমেদ ধামরাইয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে তারেক রহমানের পূজা উপহার বিতরণ করছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সুলতানা আহমেদ ধামরাইয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের মাঝে তারেক রহমানের পূজা উপহার বিতরণ করছেন সংরকৃত নারী আসনের এমপি সুলতানা আহমেদ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে ধাক্কা, ইটবোঝাই ট্রাকের হেলপার আহত ধামরাইয়ে ২৩৫ পূজা মণ্ডপে সরকারি চাল, নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ

ধামরাইয়ে খড় শুকানো নিয়ে বিরোধে আহত গৃহবধূর মৃত্যু, খুনিদের ফাসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ।

ঢাকার ধামরাইয়ে সামান্য ধানের খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের বর্বরচিত হামলায় গুরুতর আহত গৃহবধূ লাইলী বেগম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সপ্তাহখানেক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত গ্রামবাসী অংশ নেন।

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে বৈন্যা গ্রামে খড় শুকানো নিয়ে লাইলী বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী নাহিদা মেম্বার ও তার ছেলে শারমানের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে নাহিদা মেম্বার ও শারমানের সন্ত্রাসী বাহিনী লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই গৃহবধূর ওপর চড়াও হয়। তারা লাইলী বেগমকে নির্মমভাবে ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

​মানববন্ধনে নিহতের মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
​আমার মা আর আমাকে নাহিদা বেগম মারধর করেন। আমার ফুপি আমাদের বাঁচাতে গেলে তারা আমার ফুপিকেও টেনে হিঁচড়ে মারধর করে। রাতে আমার মা বাইরে বের হলে তাকে তুলে নিয়ে যায় আর আমাদের ঘর বাইরে থেকে আটকে দেয়। শারমান, কায়েস ও নাহিদা বেগমসহ আরও কয়েকজন আমার মাকে কুপিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখে। এভাবে যারা আমার মাকে মেরে ফেললো, তাদের ফাঁসি দাবি করছি। ​নিহত লাইলী বেগমের ছেলেও মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমার মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেছি। সব শেষে এনাম হাসপাতালে আইসিইউতে আমার মা মারা যান। মায়ের সাথে শেষ কথাটাও বলতে পারি নাই। আমার মায়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই।

​মানববন্ধনে বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর থেকে মূল আসামি নাহিদা মেম্বারের ছেলে শারমানসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ এখনো মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত নাহিদা মেম্বার, তার ছেলে শারমান, কায়েসসহ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

নিউজটি শেয়ার করুন

০৩:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

ধামরাইয়ে খড় শুকানো নিয়ে বিরোধে আহত গৃহবধূর মৃত্যু, খুনিদের ফাসির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

০৩:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নাজমুল আলম মাসুদ।

ঢাকার ধামরাইয়ে সামান্য ধানের খড় শুকানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের বর্বরচিত হামলায় গুরুতর আহত গৃহবধূ লাইলী বেগম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সপ্তাহখানেক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

​এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত আসামিদের ফাঁসির দাবিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ শত শত গ্রামবাসী অংশ নেন।

​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে বৈন্যা গ্রামে খড় শুকানো নিয়ে লাইলী বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী নাহিদা মেম্বার ও তার ছেলে শারমানের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে নাহিদা মেম্বার ও শারমানের সন্ত্রাসী বাহিনী লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই গৃহবধূর ওপর চড়াও হয়। তারা লাইলী বেগমকে নির্মমভাবে ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

​মানববন্ধনে নিহতের মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
​আমার মা আর আমাকে নাহিদা বেগম মারধর করেন। আমার ফুপি আমাদের বাঁচাতে গেলে তারা আমার ফুপিকেও টেনে হিঁচড়ে মারধর করে। রাতে আমার মা বাইরে বের হলে তাকে তুলে নিয়ে যায় আর আমাদের ঘর বাইরে থেকে আটকে দেয়। শারমান, কায়েস ও নাহিদা বেগমসহ আরও কয়েকজন আমার মাকে কুপিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখে। এভাবে যারা আমার মাকে মেরে ফেললো, তাদের ফাঁসি দাবি করছি। ​নিহত লাইলী বেগমের ছেলেও মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমার মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেছি। সব শেষে এনাম হাসপাতালে আইসিইউতে আমার মা মারা যান। মায়ের সাথে শেষ কথাটাও বলতে পারি নাই। আমার মায়ের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই।

​মানববন্ধনে বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর থেকে মূল আসামি নাহিদা মেম্বারের ছেলে শারমানসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ এখনো মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত নাহিদা মেম্বার, তার ছেলে শারমান, কায়েসসহ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।